এবার ভরা মৌসুমেও নতুন চালের সরবরাহ নেই চট্টগ্রামের প্রধান পাইকারী মোকাম খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলীতে। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা পুরনো মজুতের চালেই বাজার সচল থাকলেও নতুন চাল মজুত করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ভরা মৌসুমেও সরবরাহ সংকট থাকায় চালের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে।
মূল্যবৃদ্ধির বর্তমান চিত্র
চট্টগ্রামের পাইকারী বাজারে প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। নিচে বিভিন্ন প্রকার চালের মূল্যতালিকা দেওয়া হলো:
- ব্রি-২৮ চাল: গত মাসে ২৭০০ টাকা, বর্তমানে ২৯০০ টাকা।
- স্বর্ণা চাল: ২৫০০–২৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬৫০–২৯০০ টাকা।
- মিনিকেট চাল: ৩৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪৫০ টাকা।
- মোটা সিদ্ধ চাল: ২৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০০ টাকা।
- নাজিরশাইল চাল: ৩৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৭৫০ টাকা।
- কাটারি আতপ: ৩৮৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৪১০০ টাকা।
পাইকারী বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে খুচরা বাজারে। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
মূল কারণসমূহ
চালের বাজারে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখযোগ্য:
- সরবরাহ সংকট: নতুন চাল মজুত করে রাখা এবং উত্তরবঙ্গ থেকে সরবরাহ কম আসা।
- আমদানি বাধ্যবাধকতা: চাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হলেও ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতার কারণে আমদানি কম হয়েছে।
- বড় কর্পোরেট হাউসের কবজা: কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ চাল নিজেদের মজুত করে রেখেছে, যা বাজারে সংকট তৈরি করেছে।
- সিন্ডিকেট: পাইকারী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট থাকার কথা অস্বীকার করলেও সরবরাহ সংকটের জন্য দায়ী।
সরকারি উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা
সরকার পহেলা নভেম্বর চাল আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ ও রেগুলেটরি শুল্ক ৫ শতাংশ প্রত্যাহার করে, দুই শতাংশ অগ্রিম আয়কর রেখে আমদানির অনুমোদন দেয়। তবে এই পদক্ষেপ চালের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে।
সাধারণ মানুষের বিপদ
চালের এই মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দামে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কর্পোরেট মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।