ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্যকেই ভারত সমর্থন করে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো একক রাজনৈতিক দল বা সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং এটি বাংলাদেশের জনগণের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রম মিশ্রি জানান, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সমালোচনাকে ভারত সমর্থন করে না এবং এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই তুচ্ছ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল একটি রাজনৈতিক দল বা সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত বাংলাদেশের জনগণের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে।”
শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়া
চলতি বছরের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন ভারতীয় সমর্থনপুষ্ট শেখ হাসিনা। এরপর তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, যার মধ্যে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিক্রম মিশ্রির মন্তব্য
বিক্রম মিশ্রি আরও বলেন, শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের ডিভাইস ব্যবহার করে এসব বক্তব্য দিয়ে চলেছেন এবং ভারত সরকার তাকে এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুবিধা প্রদান করছে না, যা তাকে ভারতের মাটিতে তার রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালানোর সুযোগ দেয়। তিনি ভারতের ঐতিহ্যবাহী নীতি অনুযায়ী অন্য দেশে হস্তক্ষেপ এড়ানোর কথা উল্লেখ করেন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক
বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, ভারত বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় তার বাণিজ্য ও যোগাযোগের সবচেয়ে বড় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেল যোগাযোগ, বাস সংযোগ, অভ্যন্তরীণ নৌপথ নির্মাণের মত নানা প্রকল্পে সহযোগিতা করেছে। তবে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল পরিষেবা এখনও স্থগিত রয়েছে।