Home » বাংলাদেশের দুর্নীতির অভিযোগে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের নাম

বাংলাদেশের দুর্নীতির অভিযোগে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের নাম

by খবর ২৪ ঘন্টা
0 comments 178 views
A+A-
Reset
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে বাংলাদেশে ব্রিটিশ অপরাধ সংস্থা

বাংলাদেশের একটি অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা) আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাজ্যের লেবার মন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, টিউলিপ বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগের পটভূমি

২০১৩ সালে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের সময় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন টিউলিপ। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার যোগ করে এর একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়। এ অর্থের ৩০ শতাংশ টিউলিপ সিদ্দিক নিজের কাছে রাখেন এবং বাকি অংশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করা হয়।

অভিযোগকারী ও প্রেক্ষাপট

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ অভিযোগ করেন, টিউলিপ সিদ্দিক রূপপুর প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারও এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

ববি হাজ্জাজ দাবি করেন, রূপপুর প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় এক হাজার কোটি ডলারের একটি চুক্তি করা হয়। তবে প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে সেখানে দুর্নীতি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে টিউলিপ সিদ্দিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে টিউলিপ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি টিউলিপ সিদ্দিকের ওপর আস্থা রাখেন এবং তাকে তার দায়িত্বে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র জানান, টিউলিপ সিদ্দিক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যেকোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

পরিবার ও রাজনৈতিক সংশ্লেষ

টিউলিপ সিদ্দিক শেখ হাসিনার ভাগনি। ২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোরই ধারাবাহিক অংশ বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের নতুন সরকার তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও একই ধরনের রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হয়েছিলেন।

রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ও ভিডিও প্রমাণ

এপির প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২০১৩ সালে টিউলিপ সিদ্দিক মস্কোর ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও শেখ হাসিনার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন।

You may also like

Leave a Comment

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: গুলজার টাওয়ার (২য় তলা), চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com