খুলনার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আজ (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত “শহীদ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম পুলিশের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। সারজিস আলম বলেন, “পুলিশ চাইলে সবকিছু করা সম্ভব। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সেনাবাহিনী কিছুদিনের জন্য সহযোগিতা করতে আসে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পুলিশের কাজেই জনগণ নির্ভরশীল।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশের দায়িত্ব অপরিসীম। আমরা এখনো পুলিশের ওপর আস্থা হারাইনি। তবে এই আস্থার প্রমাণ দিতে হবে সঠিক কাজের মাধ্যমে।”
জুলাই আন্দোলন ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
জুলাই-আগস্ট গণ-আন্দোলনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে সারজিস আলম বলেন, “আন্দোলনে শহীদদের হত্যার বিচার করা বর্তমান সরকারের একটি বড় দায়িত্ব। যদি তা না হয়, তবে এটি হবে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ পরিবারের জন্য পুলিশ, প্রশাসন এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা একত্রে কাজ করলে তাদের পুনর্বাসন এবং জীবিকা সহজ হবে।”
শহীদ পরিবারের জন্য সহায়তা
অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৮ শহীদ পরিবারের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
অতিথিদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো. হাসানুজ্জামান, এবং আরও অনেকে। তাঁরা শহীদ পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সারজিস আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা কথা দিচ্ছি, জীবনের বিনিময়ে হলেও এই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”