সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কমিশনার এবং প্রাক্তন জেলা জজ জহুরুল হকের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট বাতিল ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এ নির্দেশনা জারি করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কামরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ ১৯৭৩-এর ৭ (২) সি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জহুরুল হকের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলাকালীন তিনি যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও অনুসন্ধান
জহুরুল হকের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়মসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুদক ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে এবং একটি অনুসন্ধান দল নিয়োগ করেছে।
বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রভাব
জহুরুল হক জেলা জজ হিসেবে বিডিআর বিদ্রোহ মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এ সময় একাধিক পক্ষপাতমূলক রায় দেন। বিডিআর মামলার অনুসন্ধান এবং হাসিনা সরকারের সুনজরে আসার মাধ্যমে তিনি দুদক কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।
প্লট জালিয়াতি ও সম্পদের কেলেঙ্কারি
দুদকের প্রভাব খাটিয়ে জহুরুল হক পূর্বাচল প্রকল্প থেকে নিজের ও তার স্ত্রী মাসুমা বেগমের নামে দুটি প্লট বেআইনিভাবে ১০ কাঠায় রূপান্তর করেন। রাজউক জানায়, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি বা তার পরিবারের একাধিক প্লট গ্রহণের সুযোগ নেই। তার এই প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি।
রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা
দুদক কমিশনার হিসেবে জহুরুল হক বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলায় ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর তার আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং সম্পত্তি জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসে।