ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়ন বৃহস্পতিবার নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৫.২৪ রুপি, যা ইতিহাসে সর্বনিম্ন। একটানা সাত লেনদেন অধিবেশনে রুপির দরপতন দেখা গেছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থার সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে প্রতিফলিত করে।
অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ
বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি
ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমাগত বাড়ছে। আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়কালে বাণিজ্য ঘাটতি গত বছরের তুলনায় ১৮.৪ শতাংশ বেড়েছে।
বিনিয়োগ প্রত্যাহার
প্রান্তিকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি প্রান্তিকে ১০.৩ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ এর আগের প্রান্তিকে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ভারতে প্রবেশ করেছিল। বিনিয়োগ প্রত্যাহারের এই প্রবণতা রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
ডলারের শক্তি বৃদ্ধি
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ডলারের মান বেড়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ডলারের মূল্যসূচক বিগত বছরের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতিমালাও ডলারের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
রুপির ভবিষ্যৎ: দুর্বলতার পূর্বাভাস
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়ন অব্যাহত থাকবে। আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতি ডলারের দাম ৮৬ রুপিতে পৌঁছাতে পারে।
গত অর্থবছরে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৬০ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছরে ঘাটতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের ধনাত্মক লেনদেন ভারসাম্যের সম্ভাবনা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।