সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ঘোষিত ২০২৪ সালের সাধারণ ক্ষমা শেষ হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এ সাধারণ ক্ষমার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি তাদের অবস্থান বৈধ করেছেন।
পাসপোর্ট এবং ভিসা সংক্রান্ত তথ্য
আবুধাবি দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর প্রধান কাউন্সেলর সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাধারণ ক্ষমার সময়কালে:
- ই-পাসপোর্ট ইস্যু: ১৩,৯৩১টি
- এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যু: ৫,৮১৫টি
- ট্রাভেল পারমিট ইস্যু: ৮১৭টি
- পাসপোর্ট নবায়ন: ২,০০৩টি
দুবাই কনস্যুলেটের পরিসংখ্যান
দুবাই কনস্যুলেটের প্রেস সচিব মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, সাধারণ ক্ষমার সময়:
- ই-পাসপোর্ট ইস্যু: ৪৭,৬০৯টি
- এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যু: ৭,১৭৫টি
- ট্রাভেল পারমিট ইস্যু: ৪,৮৪০টি
- পাসপোর্ট সেবা: প্রায় ৭০ হাজার প্রবাসী
সাধারণ ক্ষমার প্রভাব
আইসিপি’র মহাপরিচালক সুহেইল আল খাইলি জানিয়েছেন:
- ৮৮% প্রবাসী তাদের অবস্থান বৈধ করে আমিরাতে থেকে যাচ্ছেন।
- ১২% প্রবাসী বৈধ অবস্থানে থেকে দেশে ফিরে গেছেন।
সাধারণ ক্ষমার উদ্দেশ্য এবং পূর্বের উদ্যোগ
আমিরাতে মোট জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশই অভিবাসী। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে আইনশৃঙ্খলার আওতায় এনে দেশের উন্নয়নে অন্তর্ভুক্ত করাই সাধারণ ক্ষমার মূল উদ্দেশ্য।
গত দুই দশকে এটি ছিল পঞ্চম সাধারণ ক্ষমা।
- ২০০৩: ৩ লাখ বৈধকরণ
- ২০০৭: ২ লাখ ৭৮ হাজার
- ২০১৩: ৬১ হাজার ৮২৬
- ২০১৮: ১ লাখ ৫ হাজার
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং চ্যালেঞ্জ
সাধারণ ক্ষমার সময় যারা অবস্থান বৈধ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে জানুয়ারি থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিদিন ৫০ দিরহাম জরিমানা আরোপ এবং গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া, আমিরাতে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মী ভিসা স্থগিত রয়েছে। প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি আমিরাতে অবস্থান করছেন, তবে কর্মী ভিসার জটিলতা এখনও সমাধান হয়নি। ২০২৫ সালের শুরুতে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।