আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদেশে পালিয়ে থাকা দলের নেতারা দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য নতুন কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশে আসা অর্থের একটি অংশ শ্রমিক অসন্তোষ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহের উত্থান ও সন্দেহ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রেমিট্যান্স প্রবাহ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আগস্ট মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২২ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৮.৫৪ শতাংশ বেশি। ডিসেম্বরে এই পরিমাণ রেকর্ড ২৬৪ কোটি ডলারে পৌঁছায়। যদিও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি অর্থনৈতিক উন্নতির ইঙ্গিত দেয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এ অর্থের অপব্যবহার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অস্থিরতার কৌশল ও অর্থের উৎস
সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রেমিট্যান্সের একটি অংশ অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। শ্রমিক অসন্তোষ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এই অর্থ ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
এছাড়া, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ এখন রেমিট্যান্সের আড়ালে দেশে ফেরত আসছে। এই অর্থ দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
হুন্ডি প্রতিরোধে পদক্ষেপ
দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে হুন্ডির প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, মোট রেমিট্যান্সের ৪০-৪২ শতাংশ আসে হুন্ডির মাধ্যমে। এই অর্থ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সরকারের উদ্যোগ
সরকার অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রেমিট্যান্স উৎস যাচাই করার পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন স্থগিত করেছে। বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে উৎস নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাচারকৃত অর্থ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
বিগত সরকারের সময় পাচারকৃত ২৩,৪০০ কোটি ডলারের একটি বড় অংশ বর্তমানে সন্দেহজনক উপায়ে দেশে ফিরে আসছে। এই অর্থ ব্যবহার করে সরকারকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকার অস্থিতিশীলতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করেছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করছে।