চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন একটি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে ফিরে এসেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১৮ মে) সকালে অভিযানে নামলেও দুপুর নাগাদ বিলবোর্ডটি উচ্ছেদ না করেই ফিরে আসেন আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা এবং তার দল।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিলবোর্ডটি অপসারণে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিলবোর্ডটির মালিকানা রয়েছে এ্যাডফ্রেম নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার, যার পেছনে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য আরশেদুল আলম বাচ্চু এবং তার অংশীদার হাফিজ উল্লাহ আমিন তিমুর।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, সকাল ১০টায় বড় ক্রেনসহ অভিযান শুরু করে তারা। সেন্ট্রাল প্লাজার ছাদে স্থাপিত বিলবোর্ডটির একাংশ কেটে ফেলা হলেও, পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ না করায় অভিযানটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। একই সময়ে কাছাকাছি বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (বাওয়া) এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা চলছিল, ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
এই অবস্থায় বিলবোর্ড মালিকপক্ষ মেয়রের কাছ থেকে নিজেরাই সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার সময় চায়। মেয়র সময় দিলে অভিযানে থাকা দলটি অভিযান স্থগিত করে ফিরে আসে।

সেন্ট্রাল প্লাজার ছাদে স্থাপিত বিলবোর্ডটির একাংশ কেটে ফেলা হলেও, পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ না করায় অভিযানটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু জাফর বলেন, “বিজ্ঞাপনী সংস্থার মালিকরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নেবেন বলে জানিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আমরা ফিরে এসেছি।”
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর থেকে চট্টগ্রাম নগরে নতুন বিলবোর্ড স্থাপনের অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে আরশেদুল আলম বাচ্চু ও হাফিজ উল্লাহ আমিন তিমুর ২০২২ সালে জিইসি মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজার ছাদ ও দেয়ালে ৮টি বিলবোর্ড স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বার্ষিক ২০ লাখ টাকায় সেগুলো অনুমোদন পায়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সেই অনুমোদন বাতিল করে সেগুলো সরিয়ে নিতে সাতদিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। মালিকপক্ষ সেই নির্দেশ অমান্য করে আদালতের শরণাপন্ন হয়।