আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সব জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় এক বৈঠক শেষে এই দাবি জানান দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “বর্তমান সংকটময় সময়ে আমরা ড. ইউনূসের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছি এবং তাকে বলেছি, গণঅভ্যুত্থানের যে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, তা শেষ করে তারপর অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”
বৈঠকে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবির অংশ হিসেবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এই ঘোষণাপত্র প্রকাশে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ কার্যদিবস সময় চাওয়া হয়েছিল। আমরা জোর দিয়ে বলেছি—এই সময়সীমার মধ্যেই ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করতে হবে। ড. ইউনূস আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এটি প্রকাশ করা হবে।”

দ্বিতীয় দাবিতে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসনের বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। তৃতীয় দাবিতে বলা হয়, “শেখ হাসিনার শাসনামলে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচন ছিল প্রহসনমূলক। ভোটারদের অধিকার হরণ করে দিনের ভোট রাতে নেওয়া হয়েছে, ‘ডামি’ প্রার্থীদের বিজয়ী দেখানো হয়েছে। এসব নির্বাচন বিভিন্ন সময় বিরোধী দলগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন আবার সেই নির্বাচনগুলোকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেজন্য আমরা চাই—সেই নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে।”
চতুর্থ দাবিতে বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যমান নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা নেই। কমিশন পুনর্গঠন করে স্থানীয় নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে।

পঞ্চম ও শেষ দাবিতে ৭ জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার এবং একটি স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানায় এনসিপি।
বৈঠকে অংশ নেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।