নিজস্ব প্রতিবেদক | চকবাজার, চট্টগ্রাম
রাস্তার ঠিক ওপরেই সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে দাহ্য পদার্থের গ্যাস সিলিন্ডার, আর ঠিক তার পাশ দিয়েই সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। একটু দূরেই ভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে কমলা, আপেল, আঙুর আর পেয়ারা। এর মাঝেই একজন আমড়া কেটে লবণ মেখে বিক্রি করছেন, আর একদল মানুষ রাস্তার ওপর জটলা পাকিয়ে সেই আমড়া খাচ্ছেন। কোনো পর্যটন এলাকা নয়, এটি চট্টগ্রাম মহানগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চকবাজার থানার ঠিক বাইরের নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য।
এর আগেও এই এলাকাটির অব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিকবার সংবাদ পরিবেশন করা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে, যারা নিজেদের প্রধান ফটকের সামনে থাকা কয়েকশ অবৈধ ও ভাসমান স্থাপনা দেখতে পান না, তারা গণমাধ্যমের খবর বা জনদুর্ভোগের কথা আদৌ কানে নেবেন কি না?
সরেজমিনে দেখা যায়, কেবল থানার সামনেই নয়, পুরো চকবাজার এলাকাটিই এখন অবৈধ হকারদের দখলে। বালি আর্কেড ও চকসুপার মার্কেটের সামনে ফুটপাতের অস্তিত্বই নেই। তেলিপট্টি রোড, লালচান্দ রোড এবং অলি খাঁ মসজিদ মোড় এলাকায় হকারদের কারণে রিকশা চলাচলও দায় হয়ে পড়েছে। শাহেনশাহ মার্কেট এবং গুলজার টাওয়ারের আশেপাশে রাস্তার ওপর দোকান বসানো হয়েছে। কলেজ রোডের একটি বিশাল অংশ এখন ভাসমান হকারদের স্থায়ী বাজারে পরিণত হয়েছে।
রাস্তার ওপর সিলিন্ডার রেখে ব্যবসা পরিচালনা এবং তার পাশেই অবাধে ধূমপান মানুষের জন্য বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকি তৈরি করছে। সরকার থেকে রাস্তা ইজারা দেওয়ার কোনো বিধান নেই, সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সও নেই এসব ভাসমান দোকানের। তবুও কোন ক্ষমতার বলে কয়েকশ দোকান বছরের পর বছর রাস্তা দখল করে রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে, তা এখন এক বড় রহস্য। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই প্রকাশ্য আইন লঙ্ঘনের পেছনে কোনো ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’ বা ‘মাসোহারা’ কাজ করছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
নগরবাসী আশা করেন, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার দায়িত্বটি শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন নেবে এবং চকবাজারের রাস্তাগুলো সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করবে।