আইনগত, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় এই পরিকল্পনার কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,
“চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, আমদানি-রপ্তানির মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং শিল্প-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নগরী। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।”
তিনি সংসদের সামনে অতীত ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “২০০৩ সালে তৎকালীন সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে দেশের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন। তবে ওই ঐতিহাসিক ঘোষণার পর বিগত সরকারগুলোর উদাসীনতায় এ বিষয়ে পরবর্তীতে আর কোনো কার্যকর প্রশাসনিক আদেশ বা গ্যাজেট জারি করা হয়নি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং কর্মসংস্থানের মূল হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছে।
তবে চট্টগ্রামকে কেবল নামেই নয়, প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু বন্দরের উন্নয়নই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এর জন্য অর্থনীতি, অবকাঠামো, নগর ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রে টেকসই ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার একটি রূপরেখাও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি জানান, চট্টগ্রামের সক্ষমতা বিশ্বমানে উন্নীত করতে আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কাস্টমস ও ডিজিটাল সেবা দ্রুততর করা, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও অন্যান্য অঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের কানেক্টিভিটি গড়ে তোলা, গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর সঙ্গে কার্যকর বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপন এবং ওয়ান স্টপ বা সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা পুরোদমে চালু করা গেলে চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সফল বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে অচিরেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।