আন্তর্জাতিক

শিশুদের স্কুলে পরীক্ষা নেই যেসব দেশে

ছোটবেলা থেকেই পরীক্ষার নম্বর, ফার্স্ট-সেকেন্ড হওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা আর বইয়ের পাহাড়—এ যেন অধিকাংশ দেশের শৈশবের পরিচিত দৃশ্য। তবে বিশ্বের এমন কিছু উন্নত দেশ রয়েছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা বা গ্রেডিং পদ্ধতির মুখোমুখি হতে হয় না। পরীক্ষা না থেকেও এসব দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের শীর্ষে এবং এখানকার শিশুরা মেধা ও সৃজনশীলতায় অনন্য।

যে দেশগুলোতে শৈশবে পরীক্ষা নেই:

  • ফিনল্যান্ড: বিশ্বজুড়ে মডেল হিসেবে স্বীকৃত ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশুদের ৭ বছর বয়সের আগে স্কুলে ভর্তি করা হয় না। এমনকি প্রায় ১৬ বছর বয়স (মাধ্যমিকের শেষ) পর্যন্ত তাদের কোনো বাধ্যতামূলক কেন্দ্রীয় পরীক্ষা দিতে হয় না। ক্লাসে কোনো জিপিএ বা র‍্যাঙ্কিং নেই; কেবল শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য নিয়মিত মূল্যায়ন করেন।

  • জাপান: জাপানে শিশুদের বয়স ১০ বছর না হওয়া পর্যন্ত (চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত) কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা নেওয়া হয় না। প্রথম তিন বছর শিশুদের পড়ালেখার চেয়ে নীতি-নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা শেখানো হয়।

  • নরওয়ে ও সুইডেন: স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এই দেশগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (প্রায় ১২-১৩ বছর বয়স পর্যন্ত) শিশুদের কোনো গ্রেডিং দেওয়া হয় না। সেখানে পড়ালেখাকে আনন্দের মাধ্যমে শেখানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

পরীক্ষা ছাড়াই যেভাবে এরা মেধাবী ও সফল হয়ে ওঠে:

প্রশ্ন উঠতে পারে—পরীক্ষা না থাকলে বাচ্চারা শিখছে কীভাবে এবং তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এত মেধাবী প্রমাণিত হয় কীভাবে? শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ও শিশুমনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা পদ্ধতি:

১. প্রাথমিক বয়সে শিশুদের মুখস্থবিদ্যা বা পরীক্ষার ভীতি না দিয়ে শেখানো হয় সামাজিক শিষ্টাচার, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং আত্মনির্ভরশীলতা।

২. ফিনল্যান্ড বা নরওয়ের মতো দেশগুলোতে শিশুরা খেলার ছলে গণিত, বিজ্ঞান ও ভাষার মৌলিক ধারণা শেখে। এতে শিশুর মস্তিষ্কের কৌতূহল ও সৃজনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

৩. পরীক্ষার ভীতি না থাকায় শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় না। তারা স্কুলে যাওয়াকে আনন্দদায়ক মনে করে, যা তাদের শেখার আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদী করে তোলে।

৪. সব বাচ্চার শেখার গতি এক নয়। পরীক্ষা দিয়ে তাদের ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ চিহ্নিত না করে, শিক্ষকরা প্রতিটি শিশুর দুর্বলতা অনুযায়ী আলাদাভাবে পরিচর্যা করেন।

পরীক্ষামুক্ত ও আনন্দময় শৈশব নিশ্চিত করেই এসব দেশ বিশ্বমঞ্চে গড়ে তুলছে যুগোপযোগী, উদ্ভাবনী ও উচ্চ মেধাসম্পন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

Leave a Comment

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com