আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ মাথাপিছু আয়ের (GDP per Capita) ডাটা অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপ মহাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইউক্রেন। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের ফলে দেশের অবকাঠামো ও অর্থনীতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) গাণিতিক গড়ের তুলনায় পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির অর্থনৈতিক সূচক আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। মাথাপিছু জিডিপির বিশ্বস্ত ডাটা বিশ্লেষণ করলে ইউরোপের সবচেয়ে কম আয়ের দেশগুলোর চিত্র নিচে ফুটে ওঠে:
-
ইউক্রেন (Ukraine): মাথাপিছু জিডিপি প্রায় $৪,৭০০ থেকে $৫,২০০ মার্কিন ডলার (ইউরোপের সর্বনিম্ন)।
-
কসোভো (Kosovo): মাথাপিছু জিডিপি প্রায় $৫,৬০০ মার্কিন ডলার।
-
মলদোভা (Moldova): মাথাপিছু জিডিপি প্রায় $৬,৪০০ মার্কিন ডলার।
-
আলবেনিয়া (Albania): মাথাপিছু জিডিপি প্রায় $৭,৩০০ মার্কিন ডলার।
(তথ্যসূত্র: আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক ডাটাবেস)
ইউক্রেনকে ঐতিহাসিকভাবে ‘ইউরোপের রুটির ঝুড়ি’ (Breadbasket of Europe) বলা হলেও দেশটির অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে একাধিক কারণে। প্রথমত, দেশটির প্রধান বাণিজ্য খাত অর্থাৎ কৃষ্ণসাগরীয় কৃষি রপ্তানি পথ বন্ধ হওয়া ও শস্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়া। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দেশটির জাতীয় অর্থনীতি বা জিডিপি প্রায় ৩৫% থেকে ৪০% সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া দেশটির শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত দোনবাস এলাকার ধাতব ও খনিজ শিল্প কারখানাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনশক্তির দেশত্যাগ ও বাস্তুচ্যুতি অর্থনৈতিক মন্দাকে আরও উসকে দিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (UNHCR) হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮০ লাখের বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে। দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার গত বছরগুলোতে ২০% ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে ইউক্রেনের বাৎসরিক বাজেটের একটি বড় অংশ এবং জাতীয় সামাজিক সুরক্ষ খাত সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থাগুলোর বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনীতিবিদদের মতে, চলমান যুদ্ধ বন্ধ হলেও ইউক্রেনকে তার পূর্বের অর্থনৈতিক অবস্থায় ফেরাতে এবং জাতীয় অবকাঠামো পুনর্গঠন (Reconstruction) করতে আগামী এক দশকে অন্তত ৪১১ বিলিয়ন থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থের প্রয়োজন হবে।