ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে সামরিক তহবিল কমিয়ে দেয়, তবে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরাজিত হতে পারে। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
জেলেনস্কির বক্তব্য
জেলেনস্কি বলেন, “যদি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের সহায়তা কমিয়ে দেয়, তাহলে আমাদের শক্তি কমে যাবে এবং আমরা হয়তো হারব।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের নিজেদের কিছু উৎপাদন রয়েছে, তবে তা রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এটি আমাদের নিরাপত্তার জন্যও যথেষ্ট নয়।”
২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে জো বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে এই ধরনের সহায়তার কড়া সমালোচক।
ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি ও সমালোচনা
ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে কীভাবে তা করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো দিকনির্দেশনা দেননি। এই সপ্তাহে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য ইউক্রেনকে মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা এই সিদ্ধান্তকে বিপজ্জনক এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন-ইউক্রেন ঐক্যের ওপর নির্ভরশীলতা
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, “আমাদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের মধ্যে ঐক্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হতে পারেন, কারণ তিনি পুতিনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এটি সম্পূর্ণরূপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে। পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দুর্বল।”
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তহবিল ইউক্রেনের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে ট্রাম্পের অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।