প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পুনরায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) হাতে আসছে। রোববার (৮ ডিসেম্বর) চসিকের টাইগারপাস কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ ঘোষণা দেন।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের টাকায় ও জমিতে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত। এটি চট্টগ্রামের জনগণের সম্পত্তি। তবে দুর্বৃত্তদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি দখল করা হয়েছে। আমরা এটি দখলমুক্ত করতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে চসিকের আওতায় এনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুন্দর শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এটি জবরদখলের হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ও সম্পত্তি চসিকের অর্থায়নে কেনা হয়েছে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এটি চসিকের অধীনে পরিচালিত হলেও পরে এটি জোরপূর্বক অন্য কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বর্তমানে প্রশাসনিক শূন্যতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টি পুনরায় চসিকের নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চসিকের আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা বিষয়ে কোনো উচ্চ আদালতে মামলা নেই। তবে ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে দুটি মামলা রয়েছে। চসিকের অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার অধিকার ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কার উদ্যোগ
মেয়র জানান, “প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়কে চসিকের আওতায় এনে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে স্থাপনার নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”
অবকাঠামোগত সমস্যা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন জানান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ওপর স্থাপিত, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী মো. আবদুল মান্নান জানান, অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন অনুযায়ী সেফটি প্ল্যান অনুমোদন ছাড়া এমন স্থাপনা পরিচালনা করা উচিত নয়।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়কে চসিকের অধীনে পরিচালনার প্রস্তাবে সমর্থন জানান। উপস্থিত ছিলেন চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক অং সুই প্রু মারমা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম, এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।