বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেছেন, “১৯৭১ এবং ২০২৪ সালে বাঙালি জাতি মুক্তির জন্য যে সংগ্রাম করেছিল তার ইতিহাস সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। জাতিকে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত করতে এবং ভবিষ্যতে যেন আর রক্তপাতের অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয়, এজন্য অতীত সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস রক্ষা করতে হবে।”
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা
এবার বিজয় দিবসে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের ৪০৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইউছুফ হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ ও পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম।
মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে কমিশনারের আহ্বান
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “আপনারা যুদ্ধে কেন গিয়েছিলেন, প্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছিলেন এবং যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশে কী ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছেন, তা দু’কলম লিখে আমাদের জানান। আপনাদের এই লিখিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণা এবং আমাদের সঠিক পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।”
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য
বিশেষ অতিথিরা বলেন, “১৯৭১ সালে বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য রাষ্ট্র সমান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বৈষম্যই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছে। ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”