বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা যেন একাত্তরকে কখনো ভুলে না যাই।” একাত্তরের স্বাধীনতার সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং গণতন্ত্রের জন্য ছাত্রদের আত্মত্যাগের মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘ঐক্য কোন পথে’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই সংলাপের আজ ছিল প্রথম দিন।
গণতন্ত্র ও সংস্কার নিয়ে বক্তব্য
মির্জা ফখরুল বলেন,
“স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও আমাদের জাতি আজ ঐক্য, সংস্কার এবং নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য হচ্ছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০, ২০২২ সালে ১০ দফা এবং পরবর্তীতে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি উপস্থাপন করে সংস্কারের পক্ষে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম
বিএনপি মহাসচিব জানান, ২০১২ সাল থেকে বিএনপি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন,
“আমাদের অনেক নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং গুম করা হয়েছে। তবুও আমরা থেমে থাকিনি।”
নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম সংস্কারের দাবিতে অটল। তিনি আরও যোগ করেন,
“তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে। জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।”
প্রতিষ্ঠানের কাঠামো পরিবর্তনের আহ্বান
বিএনপি নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠানের সংস্কার জরুরি।
“আপনার প্রশাসন যদি ফ্যাসিবাদের মধ্যে থাকে, তাহলে কোনো চাপিয়ে দেওয়া পরিবর্তন সফল হবে না।”
সংলাপের গুরুত্ব
সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা সংস্কার, ঐক্য ও নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।