ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পর বিরোধী দলীয় এমপিরা তাকে ব্রিটেনের ফাইন্যান্সিয়াল স্যাংকশন ইমপ্লিমেন্টেশন (আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন কার্যালয়) থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট:
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থ আত্মসাতে টিউলিপ সিদ্দিক তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই প্রকল্পে কাজ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি রোসাটোম।
টিউলিপের দায়িত্বে থাকা দপ্তর রোসাটোমের সহযোগী ৪৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিরোধী দলের হোম অ্যাফেয়ার্সের মুখপাত্র ম্যাট ভিকার্স বলেছেন, টিউলিপের আর্থিক লেনদেন নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে টিউলিপকে এই পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।
অতিরিক্ত অভিযোগ:
দুদকের তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে টিউলিপের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ৩.৯ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্ত করছে দুদক।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১০ বিলিয়ন পাউন্ড সরানোর কাজে ‘দালালির’ অভিযোগ রয়েছে টিউলিপের বিরুদ্ধে।
টিউলিপ ও লেবার পার্টির প্রতিক্রিয়া:
টিউলিপ সিদ্দিক এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তার দল লেবার পার্টি বলেছে, অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে টিউলিপ এবং তার পরিবারের সদস্যদের অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এখনো জানা যায়নি টিউলিপকে তার বর্তমান পদ থেকে অপসারণ করা হবে কিনা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করতে রাজি হননি।