স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিপুল অর্থব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে নতুন সুপারিশ করতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। এই সুপারিশে সংসদীয় পদ্ধতিতে একসঙ্গে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এতে খরচ কমে মাত্র ৬০০ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব বলে মনে করছে কমিশন।
নির্বাচনের ব্যয়ের বিশ্লেষণ
কমিশনের প্রধান ড. তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করলে এই খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, “ঢাকার বাইরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে, কিন্তু ঢাকার রাজনীতিকদের মধ্যে এর প্রভাব তেমন দেখা যাচ্ছে না।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং জেলা পরিষদ নির্বাচন
পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিশেষ চিন্তাভাবনা চলছে। ১৯৮৯ সালের পর থেকে এই নির্বাচন আর হয়নি। এছাড়া জেলা পরিষদে সরাসরি ভোট প্রবর্তনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
পৌরসভা বিলুপ্তি এবং ইউনিয়ন পরিষদে একীভূতকরণ
পৌরসভার বাজেট ঘাটতি নিয়ে ড. তোফায়েল বলেন, “অনেক পৌরসভার কর্মীদের বেতন বাকি। প্রয়োজনে থোক বরাদ্দ থেকে এই দেনা পরিশোধ করে পৌরসভাগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে একীভূত করার সম্ভাবনা রয়েছে।”
নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নারী প্রতিনিধিত্ব
- চাকরিজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ: সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
- নারী প্রতিনিধিত্ব: নারী আসনে ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনবার নির্বাচনের পর থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রয়োজন থাকবে না।
সুপারিশের মূল পয়েন্ট
মতবিনিময় সভায় ২৮ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
- একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন
- জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতায়ন
- যুবক ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি
- পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যকর একীভূতকরণ