টেস্ট ক্রিকেটে দুই স্তরের কাঠামো প্রবর্তনের পরিকল্পনায় সক্রিয় ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। এই তিন ক্রিকেট পরাশক্তি নিজেদের মধ্যে বেশি বেশি ম্যাচ খেলতে চায় এবং এ লক্ষ্যেই আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। চলতি মাসের শেষ দিকে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সঙ্গে বৈঠক করবেন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।
কী হতে পারে দ্বিস্তর কাঠামোতে?
এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে র্যাঙ্কিংয়ের পেছনের দিকে থাকা বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলো দ্বিতীয় স্তরে থাকবে। ফলে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ কমে যাবে।
কেন উঠে আসছে এই পরিকল্পনা?
সম্প্রতি বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির ব্যাপক দর্শক সাড়া পাওয়ার পরই এই পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ভেন্যুতে হওয়া এই সিরিজে ৮ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক মাঠে খেলা উপভোগ করেন। এ ধরনের সিরিজ টেস্ট ক্রিকেটের আর্থিক ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব বাড়ায় বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
২০১৬ সালের বিরোধিতা এবং বর্তমান পরিস্থিতি
২০১৬ সালে টেস্টে দ্বিস্তর চালুর প্রস্তাব উঠলেও ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে এর বিরোধিতা করেছিল। তবে এবার ভারতীয় বোর্ড বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছে। সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক চাহিদা এবং বড় দলের দর্শকপ্রিয়তা এর পেছনে ভূমিকা রাখছে।
শাস্ত্রীর মতামত
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী মনে করেন,
“টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচাতে হলে দুই স্তরের কাঠামো জরুরি। এতে বড় দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত প্রতিযোগিতা হবে, যা দর্শক টানবে।”
সম্ভাব্য প্রভাব
যদি দুই স্তর চালু হয়:
- ছোট দলগুলোর আয় ও বড় দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ কমবে।
- বড় দলগুলো নিজেদের মধ্যে বেশি ম্যাচ খেলবে।
- টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিযোগিতার ধরণ বদলে যাবে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত নিজেদের মধ্যে প্রতি চার বছরে দুটি করে সিরিজ খেলে। দ্বিস্তর চালু হলে প্রতি তিন বছরে দুটি করে সিরিজে মুখোমুখি হবে তারা। অবশ্য বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফরম্যাটেও সবচেয়ে বেশি মুখোমুখি হয় ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। ২০২৪ সালে পাঁচ টেস্টের সিরিজ হয়েছে দুটি। একটিতে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড, আরেকটিতে ভারত-অস্ট্রেলিয়া।