বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপে কেবল ফুটবলাররাই রেকর্ডের পাতায় নাম লেখান না, মাঠের রেফারিরাও নিজেদের নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়। শত কোটি দর্শকের মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং মাঠের তারকা ফুটবলারদের স্নায়ুযুদ্ধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন, তিনি উজবেকিস্তানের সাবেক রেফারি রভশান ইরমাতভ (Ravshan Irmatov)।
২০০৩ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া ইরমাতভ টানা তিনটি বিশ্বকাপে (২০১০, ২০১৪ এবং ২০১৮) মাঠে বাঁশি হাতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই তিন আসরে তিনি মোট ১১টি ম্যাচ পরিচালনার মহাকীর্তি গড়েছেন, যা বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে যেকোনো রেফারির জন্য সর্বোচ্চ ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ড।
তাঁর এই রেকর্ডের যাত্রাটি শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে, যেখানে স্বাগতিক দেশ ও মেক্সিকোর মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচসহ এক আসরেই রেকর্ড ৫টি ম্যাচ পরিচালনা করে তিনি বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন। এরপর ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালসহ ৪টি ম্যাচ এবং ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম ক্রোয়েশিয়ার মতো হাইভোল্টেজ ২টি ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি ফরাসি রেফারি জোয়েল কুইনিউ এবং মেক্সিকোর বেনিটো আরচুন্দিয়ার ৮ ম্যাচের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নিজের ম্যাচ সংখ্যাকে নিয়ে যান ১১-তে।
মাঠে খেলোয়াড়দের সাথে চমৎকার বোঝাপড়া, নিখুঁত সিদ্ধান্ত এবং শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত ইরমাতভ এশিয়ার একমাত্র রেফারি হিসেবে টানা পাঁচবার ‘এএফসি বর্ষসেরা রেফারি’ নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে পেশাদার রেফারিং থেকে অবসর নেওয়া এই কিংবদন্তির গড়া ১১ ম্যাচের এই বিশ্বরেকর্ড বর্তমান যুগের রেফারিদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্ব ফুটবলে এক পরম বিস্ময় হয়ে টিকে রয়েছে।