সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট-চট্টগ্রাম এবং সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমান চলাচল শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’। বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী আজ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি জরুরি সভায় বসবেন। সেই সভাতেই ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচি, ভাড়ার হার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই দুটি রুটে বিমান চলাচল শুরু হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটবে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি নিজে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সাথে কথা বলে সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছি। বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি, খুব দ্রুতই আমরা সিলেটবাসীকে একটি বড় সুখবর দিতে পারব।”
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে আব্দুল মোমেন এবং বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর বিশেষ উদ্যোগে সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু করা হয়েছিল। তখন সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট এই রুটে যাত্রী পরিবহন করত। তবে কিছুদিন চলার পর নানাবিধ কারণে হঠাৎ করেই এই রুটে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পর্যটকদের আবার ঢাকা হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার যাতায়াত করতে হতো। এবার নতুন করে রুটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় আনন্দিত পর্যটকেরা।
অন্যদিকে, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটটি দেশের এভিয়েশন ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। কারণ, এর আগে কখনো এই দুই ঐতিহ্যবাহী ও বাণিজ্যিক অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগের কোনো সুযোগ ছিল না। চট্টগ্রাম বন্দরে যাতায়াতকারী সিলেটের ব্যবসায়ী এবং প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই রুটটি সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।