যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক এখন আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নতুন আইন কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা আগেই বন্ধ হয়ে যায় অ্যাপটি। ব্যবহারকারীরা এখন টিকটকে ঢুকতে গিয়ে “টিকটক সেবা বন্ধ” বার্তা দেখতে পাচ্ছেন।
টিকটক নিষিদ্ধের কারণ
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল ‘প্রটেকটিং আমেরিকানস ফ্রম ফরেন অ্যাডভারসারি কন্ট্রোলড অ্যাপলিকেশন অ্যাক্ট’ নামে একটি বিলে সই করেন। এর মাধ্যমে চীনা মালিকানাধীন টিকটককে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাইডেনের করা আইন অনুযায়ী, টিকটকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে ছয় মাসের মধ্যে তাদের শেয়ার কোনো আমেরিকান কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে হবে। তা না হলে অ্যাপটি নিষিদ্ধ থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় ও অ্যাপ বন্ধ
টিকটক এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও ৬ ডিসেম্বর ফেডারেল আপিল আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে, ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও বাইডেনের করা আইনকে সমর্থন জানায়। ফলে টিকটক বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের হতাশা
টিকটক বন্ধ হওয়ায় প্ল্যাটফর্মটির ওপর নির্ভরশীল কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নিকোলে ব্লুমগার্ডেন বলেন,
“টিকটকে না থাকার ফলে আমার আয় ব্যাপক কমে যাবে।”
ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিকটক নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ৯০ দিনের সময় দিয়ে সমস্যা সমাধানে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
টিকটক বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনও নতুন প্রশাসনের ওপর নির্ভর করছে। টিকটকের প্রধান নির্বাহী শো জি চিউ বিষয়টি নিয়ে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন।