যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্বগ্রহণের প্রথম দিনেই রেকর্ডসংখ্যক নির্বাহী আদেশে সই করে প্রশাসনে একের পর এক পরিবর্তন আনেন। বাইডেন প্রশাসনের ৭৮টি আদেশ বাতিল করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন চুক্তি ও সংস্থা থেকে প্রত্যাহার করেন।
প্রথম দিনেই নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো
১. আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে আসা:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার।
২. অভিবাসন নীতি:
- জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিলের নির্দেশ।
- সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে সৈন্য মোতায়েন এবং দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা।
৩. প্রশাসনিক কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন:
- সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন দপ্তরে হাজির থাকার বাধ্যবাধকতা।
৪. জ্বালানি খাতে উদ্যোগ:
- যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শক্তির রপ্তানিকারক হিসেবে গড়ে তুলতে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা।
- তেলের খনন কার্যক্রম বাড়ানোর আদেশ।
৫. ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ:
- অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
- কিউবাকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ।
৬. সাধারণ ক্ষমা:
- ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ১,৫০০ জনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা।
৭. লিঙ্গভিত্তিক স্বীকৃতি:
- মার্কিন সরকারের স্বীকৃতিতে শুধু ‘পুরুষ ও নারী’ থাকবে বলে নির্দেশ।
৮. প্রযুক্তি খাতে পদক্ষেপ:
- টিকটকের কার্যক্রমে ৭৫ দিনের বিরতির নির্দেশ এবং এর মালিকদের সঙ্গে আলোচনা।
বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষত জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।