যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাথে একটি গোপন বৈঠক করেছে, যেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মেইল অন সানডে’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে এনসিএ’র তদন্ত
গত জানুয়ারি মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনসিএ কর্মকর্তারা বাংলাদেশি তদন্তকারীদের কাছ থেকে নতুন প্রমাণ গ্রহণ করেন, যা টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে আরও জোরালো করতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ইমেইল রেকর্ড যাচাই করতে পারে এবং এমনকি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রোসাটমের সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বাংলাদেশের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র ‘দ্য মেইল অন সানডে’কে জানিয়েছে, এনসিএ কর্মকর্তারা টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তদন্তে সহায়তা করতে আগ্রহী এবং ব্রিটেনে তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনারও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাজ্যের ২০১০ সালের ব্রাইবেরি অ্যাক্ট অনুসারে, ব্রিটিশ নাগরিকদের বিদেশে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।
টিউলিপ সিদ্দিকের প্রতিক্রিয়া
টিউলিপ সিদ্দিক এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার দল লেবার পার্টিও বলেছে যে, এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। লেবার পার্টির একজন মুখপাত্র জানান, “টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি এবং তিনি এগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।”
গত বছর অক্টোবরে এনসিএ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন এবং সে সময় তারা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সফরটি ছিল বিশেষভাবে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
দুর্নীতির অভিযোগে গেল মাসে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীত্ব হারাতে হয়েছে শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিককে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টারের পদ হারানোর পর এবার টিউলিপ সিদ্দিকের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি, ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে।