চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার চুনতি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতগড় আস্কর আলী সওদাগর পাড়ায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত গরিব উল্লাহর ছেলে আব্দুল নবী খবর পান যে, তার মালিকানাধীন মাইদ্দ্যাকাটা গাছবাগান থেকে সংঘবদ্ধ এক দল ডাকাত গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, আলোচিত জাহেদ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ওমর-এর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল গাছ কেটে গাড়িতে তুলছে।

সংখ্যায় কম এবং ডাকাতদের কাছে দেশীয় অস্ত্র থাকায় আব্দুল নবী স্থানীয় লোকজনকে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ১০-১২ জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। তবে ডাকাত ওমরকে তার ব্যবহৃত গাড়িসহ ধরে ফেলা হয়।
ডাকাতদের পাল্টা হামলা:
ডাকাত ওমরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে হাটখোলা মুড়া এলাকায় কাসেমের দোকানের সামনে পালিয়ে যাওয়া ডাকাত দল সংগঠিত হয়ে ওমরকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন আব্দুল নবী (৬২), সাইফুল ইসলাম (৩২) ও ইব্রাহীম (২৮)।
তাদের মৃত ভেবে ডাকাত দল ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে লোহাগাড়া মা-মনি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ডাকাত দলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড:
স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, আবু ও ওমরের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন, ইয়াবা চোরাচালান ও দেশীয় মদের ব্যবসার মতো নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এই সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে সাতগড়ের কয়েকজন দাগি আসামি এবং চুনতির এক স্বঘোষিত ছাত্র সমন্বয়ক।
এই ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় গত ০৪ ফেব্রুয়ারি একটি মামলার আবেদন করা হয় যার কার্যক্রম এখনো চলমান বলে জানিয়েছে থানা সূত্র।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এই অপরাধীদের প্রতিহত করতে সামাজিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী আহ্বান জানিয়েছেন।