চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বেপারী পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ তোফায়েল, এক ভয়ংকর নারী লোভী ও প্রতারক। বিয়েকে হাতিয়ার বানিয়ে একের পর এক নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করাই ছিল তার নেশা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভুয়া ডিভোর্সের নাটক সাজিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন তিনি। আদালতের রায়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ গ্রেপ্তার হওয়ার পর একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে তার লোমহর্ষক প্রতারণার কাহিনি।
একজন সিরিয়াল প্রতারকের কাহিনি
ইব্রাহিম ও রাহেলা বেগমের সন্তান মোহাম্মদ তোফায়েল দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। এর আগে তিনটি বিয়ে করলেও কোনো সংসারই টেকেনি তার। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ চতুর্থবারের মতো বিয়ের ফাঁদ পাতেন তিনি। তার টার্গেট ছিলেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা নিপা সিকদার। বিয়ের সময় নিজের পরিচয় ও আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে মিথ্যে তথ্য দেন তোফায়েল। এমনকি বিয়ের কাজীকে দেওয়ার টাকাটাও তার কাছে ছিল না।

বিয়ের পরপরই নিপার জীবনে নেমে আসে দুঃস্বপ্ন। তোফায়েল সংসারের কোনো খরচ দিত না, উল্টো নিপার উপার্জিত টাকা হাতিয়ে নিত। কখনও পুরনো দেনা শোধ, কখনও ব্যবসার অজুহাতে টাকা চাইতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে নিপার মধ্যস্থতায় এক পরিচিত ব্যক্তির সহায়তায় একটি গাড়ি কিনে রাইড শেয়ারিংয়ের কাজ শুরু করেন। কিন্তু এরপরও তার চাহিদার শেষ ছিল না।
প্রেমের ফাঁদ থেকে ভয়ংকর প্রতারণা
তোফায়েল শুধু অর্থ লুট করেই থেমে থাকেননি। তিনি নিপাকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। একসময় নিপার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালান। এক রাতে কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে নিপাকে অজ্ঞান করে তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে পালিয়ে যান। এরপর দীর্ঘদিন গা ঢাকা দেন তিনি।
এরপর নিপা তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তোফায়েল আরও বড় প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন। নিপার কোনো অনুমতি ছাড়াই তিনি এক পরিচিত আইনজীবীর মাধ্যমে একটি ভুয়া তালাকনামা তৈরি করেন। কিন্তু এখানেই ঘটে বড় বিপত্তি!
ভুয়া তালাকনামাই হলো কাল!
২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি তালাকনামা জমা দেন তোফায়েল, যেখানে লেখা ছিল তিনি ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে নিপাকে তালাক দিয়েছেন। অর্থাৎ, এক মাস আগের তারিখে তালাক কার্যকর হয়েছে—যা স্পষ্টতই হাস্যকর এবং অবৈধ।

আদালত যখন এই দলিল পর্যালোচনা করেন, তখনই এই চরম প্রতারণা ধরা পড়ে। একজন আইনজীবী কীভাবে এক মাস আগের তালাকনামা তৈরি করলেন, সেটি নিয়ে আদালত বিস্মিত হন। এতে বোঝা যায় যে, এটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি।
অবশেষে আদালত প্রতারণার প্রমাণ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোহাম্মদ তোফায়েলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করা এই ব্যক্তি নিজেই এবার আইনের ফাঁদে আটকা পড়লেন।
উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী নিপা সিকদারের দেওয়া সাক্ষাৎকার দেখতে এই লিংক ক্লিক করুন।