দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেত্রী কিম সে-রনকে গত রোববার রাজধানী সিউলে নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। সিউলের সিওংডং পুলিশের বরাতে ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেছেন।
কিমের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, তিনি নতুন নামে কামব্যাকের পরিকল্পনা করছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ‘গিটার ম্যান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরা এবং একটি ক্যাফে খোলা।
সূত্রটি বলেন, “আমরা কখনোই ভাবিনি এমন কিছু হবে। কিম বলেছিলেন, তিনি আবার অভিনয়ে ফিরবেন এবং অর্থ উপার্জন করবেন। কিন্তু তিনি কোনো দুঃখ বা হতাশার লক্ষণ প্রকাশ করেননি।”
অভিনয়ের চূড়ায় ওঠা, তারপর ধস
২০০৯ সালে শোবিজে আত্মপ্রকাশ করা কিম, ২০১০ সালে ‘দ্য ম্যান ফ্রম নো-হোয়ার’ চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে সবার মন জয় করেছিলেন। তবে ২০২২ সালে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় বিতর্কিত হন। সিউলের গ্যাংনামে তাঁর গাড়ি ল্যাম্পপোস্ট ও গার্ডরেইলে ধাক্কা খায়, যার পরিণতিতে ২ কোটি ওন জরিমানা হয়। এরপর থেকেই অভিনয় ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা আসে।

তিনি ২০২৩ সালে ‘ডংচিমি’ নাটকের মাধ্যমে কামব্যাকের চেষ্টা করেন, কিন্তু স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে সেটিও সম্ভব হয়নি।
শেষ সিনেমা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
কিম অভিনীত ‘গিটার ম্যান’ সিনেমার শুটিং শেষ হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে। সিনেমাটি এখন পোস্ট-প্রোডাকশনে রয়েছে। তবে কিমের হঠাৎ মৃত্যু তাঁর ভক্তদের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় তারকাদের মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কিম সে-রনের মৃত্যু আরেকটি বড় ধাক্কা দিল কোরীয় বিনোদন জগতে।