Home » যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা বিভাগের বিলুপ্তি

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা বিভাগের বিলুপ্তি

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক

0 comments 131 views
A+A-
Reset
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা বিভাগের বিলুপ্তি: ট্রাম্পের বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে আরও একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষা বিভাগ বন্ধের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা সংক্রান্ত ক্ষমতা অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর পরিবর্তে প্রশাসনিক ব্যয় বাড়িয়েছে।

শিক্ষা খাতে ‘বিপ্লব’ নাকি নতুন সংকট?

এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন শিক্ষা ব্যবস্থায় নাটকীয় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে, কেন্দ্রীয় অনুদান ও শিক্ষাব্যবস্থার মান নির্ধারণের দায়িত্ব এখন অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে চলে যাবে। যদিও শিক্ষা বিভাগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম, যেমন ছাত্রঋণ ব্যবস্থাপনা ও পেল গ্রান্ট কর্মসূচি, এখনও বিদ্যমান থাকবে।

কিন্তু ডেমোক্র্যাট নেতারা ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। শিক্ষকদের জাতীয় মান নির্ধারণ ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ হয়ে গেলে বৈষম্য বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি চ্যালেঞ্জ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে রক্ষণশীল মহল স্বাগত জানিয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস একে ‘যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষা বিভাগ পুরোপুরি বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। সিনেটে বিল পাস করাতে হলে ট্রাম্প প্রশাসনকে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জিং।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের অধীনে প্রায় ১ লাখ সরকারি ও ৩৪ হাজার বেসরকারি স্কুল রয়েছে। ফেডারেল অনুদান ছাড়া অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি বাতিল হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই পরিবর্তন শিক্ষাকে আরও স্থানীয় ও স্বচ্ছ করবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা খাতে সংস্কার নাকি সংকট সৃষ্টি করবে, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

You may also like

Leave a Comment

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: গুলজার টাওয়ার (২য় তলা), চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com