মানবজাতিকে একত্ববাদ বা তাওহীদের খাঁটি শিক্ষা দিতে এবং অন্তরে খোদাভীতি বা তাকওয়া জাগ্রত করার মহান লক্ষ্য নিয়েই যুগে যুগে পৃথিবীতে অসংখ্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এতো সুস্পষ্ট গাইডলাইন এবং দিকনির্দেশনা থাকার পরও আজ আমাদের সমাজের একটি বড় অংশ বিভিন্ন উপায়ে শিরকের মতো ভয়াবহ পাপে লিপ্ত হচ্ছে।
অনেকেই মনে করেন, আল্লাহর দরবারে সরাসরি কিছু চাইলে বুঝি পাওয়া যাবে না, তাই তাঁরা বিভিন্ন ব্যক্তি, মাজার কিংবা অলৌকিক মাধ্যমের ‘উছিলা’ ধরে দোয়া করতে পছন্দ করেন। অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব” (সুরা গাফির: ৬০) এবং অন্য আয়াতে বলেছেন, “বান্দা যখন আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আমি তো তার একেবারেই নিকটে থাকি” (সুরা বাকারা: ১৮৬)। নিখিল বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এমনিতেই আমাদের মনের সব আকুতি শুনছেন, আমাদের অন্তরের প্রতিটি স্পন্দন দেখছেন এবং তিনি বান্দার শাহরগের চেয়েও বেশি কাছে অবস্থান করছেন; এমতাবস্থায় সর্বশক্তিমান আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো মাধ্যমের ওপর ভরসা করা কেবল তাওহীদের মূল চেতনার পরিপন্থীই নয়, বরং তা ঈমানকে ধ্বংসকারী এক আত্মঘাতী পথ।
তাই সমস্ত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল ছিন্ন করে, প্রতিটি মুসলিমের উচিত নবী-রাসুলদের দেখানো একমাত্র সত্য পথ—সরাসরি আল্লাহর কাছেই নিজের সব অভাব-অভিযোগ ও দোয়ার আকুতি পেশ করা, কারণ সরাসরি সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়ার মাঝেই নিহিত রয়েছে ইসলামের আসল সৌন্দর্য এবং খাঁটি তাকওয়ার বহিঃপ্রকাশ।