তেলের দাম কমানোর চেষ্টা করলেই যেন কোনো মহাকাব্যিক নাটক শুরু হয়ে যায়। সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার, পুলিশ—সবাইকে একত্রিত করলেও একটা ‘ভুতুড়ে সিন্ডিকেট’ তাদের কিছুই করতে পারে না! এটা যেন এক অদৃশ্য শক্তির খেলা, যার নিয়ন্ত্রণে কোন ক্ষমতাবানেরা আছেন তা নিয়েই চলছে জল্পনা!
এত চেষ্টা-তদবির, এত দৃষ্টি আকর্ষণের পরও তেলের দাম কমানো যায় না—এটা তো কোনো চমকপ্রদ রহস্যের চেয়েও বেশি মজার! সরকারী খরচের হিসাব কষে যে সিন্ডিকেটগুলো এমন অদৃশ্য ক্ষমতা দেখাচ্ছে, তা তো সবার জন্য মেধার পরীক্ষা! বাজারে জ্যামিতিক হারে তেলের দাম বাড়ছে, আর আমাদের প্রশাসনিক শক্তি একে আটকানোর কোন সূত্রই পাচ্ছে না। বাজারে ক্রেতাদের একাংশ মনে করছেন, যদি কর্পোরেট সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারা যায়, তবে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে চলে যেতে পারে।
নগরের বিভিন্ন বাজার যেমন চকবাজার, বহদ্দারহাট, কাজির দেউড়ি, পাহাড়তলী ইত্যাদিতে সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে। মোটা চাল কেজিতে ২-১ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪-৫৫ টাকা, পাইজাম ৫৫-৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিআর-২৮ বা মাঝারি চাল কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়ে ৬৪-৬৫ টাকায়, এবং চিকন চাল ৫ টাকা বেড়ে ৮৪ টাকা হয়েছে। কাটারি ও নাজিরশাইল চালের দাম ৮৮-৯১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তেলের বাজারে সরকারের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও সয়াবিন তেলের দাম বেড়েই চলেছে। সর্বোচ্চ নির্ধারিত দাম থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল, এবং খোলা বাজারে ১৬০ টাকার সয়াবিন তেল পাওয়াই যাচ্ছে না। বোতলজাত তেলের দামও ১৮৫-১৯৫ টাকা। দুই লিটার তেলের দাম ৩৬৫-৩৭০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। পাঁচ লিটারের তেলের দামও ৮৮০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি ও অন্যান্য পণ্যের দাম
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও, সেগুলোর দামও বাড়তির দিকে:
- বেগুন ৭০-৯০ টাকা
- শসা ৫০-৬০ টাকা
- কাঁচা মরিচ ৪০-৫০ টাকা
- টমেটো ৩০-৪০ টাকা
- আলু ২৫-৩৫ টাকা
- ঢেড়স ৫০-৬০ টাকা
- করলা ৭০-৮০ টাকা
- লেবু (হালি) ৪০-৬০ টাকা
ব্রয়লার মুরগির দাম ১০-১৫ টাকা বেড়ে ১৯০-১৯৫ টাকা, এবং কক মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই মাছ ২৮০-৩০০ টাকা, পাবদা ৩৩০-৩৫০, তেলাপিয়া ১৭০-২০০, পাঙাশ ১৭০-১৮০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের ক্ষোভ
নগরীর চকবাজারে মানিক নামের এক ক্রেতা বলেন,
“এদের সিন্ডিকেটকে শাস্তি দিতে পারে এমন আইন দেশে যতদিন থাকবে না, ততদিন এই জুলুম চলতে থাকবে। প্রশাসন ঘুমিয়ে থাকলে হবে না।”
বহদ্দারহাটে এক বিক্রেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান,
“এখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই, বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ায়। প্রশাসন যদি তাদের নিয়ন্ত্রণ না করে, আমরা কিছু করতে পারি না।”
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, “বাজার নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি এবং প্রয়োজনে আরও নজরদারি বাড়ানো হবে।”