দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টা জবাবে পাকিস্তান ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্ব এ সংঘাতের চাপ বহন করতে পারবে না এবং উভয় দেশকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: পেহেলগাম হামলা
২২ এপ্রিল ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর ওপর দায় চাপিয়ে ৭ মে গভীর রাতে পাকিস্তানের নয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যেটিকে তারা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নাম দিয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, অভিযানে ১০০ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন এবং সন্ত্রাসবাদের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান হামলাকে “আন্তর্জাতিক সীমার লঙ্ঘন ও আগ্রাসন” হিসেবে অভিহিত করেছে।
পাল্টা জবাব: পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঠানো ১২টি ড্রোন ও ৫টি যুদ্ধবিমান প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এসব ড্রোন ও বিমান পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ঢোকার চেষ্টা করছিল। এর মধ্যে লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, গুজরানওয়ালা, মিয়ানওয়ালি, করাচি ও বাহাওয়ালপুর অন্যতম।
তিনি জানান, লাহোরের কাছে একটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানায় পাকিস্তানের চার সেনা সদস্য আহত হয়েছেন এবং সিন্ধুর মিয়ানো এলাকায় এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বিমানবন্দর ও আকাশসীমা সঙ্কট
উভয় দেশের সামরিক প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর। পাকিস্তানের লাহোর, শিয়ালকোট ও করাচি বিমানবন্দর বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২১টি বিমানঘাঁটি ১০ মে ভোর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
জাতিসংঘের অবস্থান
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানি ট্রেম্বলে বলেন,
“বিশ্ব দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পারমাণবিক প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ভার নিতে পারবে না। আমরা উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।”
জাতিসংঘের মতে, এই অঞ্চলের উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক বার্তা
ভারতের সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধীদলগুলো সরকারকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, “আমরা সরকারের পাশে আছি, তবে কিছু তথ্য গোপন রাখতে বলা হয়েছে, সেটা আমরা সম্মান জানাই।”
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, তারা ভারতের যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন থাকবে।