চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “আমাদের সিটি কর্পোরেশন রাজস্ব নির্ভর প্রতিষ্ঠান। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার থেকে শুরু করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড রাজস্ব আয় দিয়েই পরিচালিত হয়। তাই চট্টগ্রাম উন্নয়নের স্বার্থে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে।”
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লালদিঘীস্থ চসিক পাবলিক লাইব্রেরির সম্মেলন কক্ষে রাজস্ব বিভাগের সাথে মতবিনিময় সভায় মেয়র এ আহ্বান জানান।
মেয়র জানান, রাজস্ব আদায় বাড়াতে এবং নাগরিকদের কর প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে রাজস্ব মেলার আয়োজন করা হবে। সেখানে নাগরিকরা সরাসরি গৃহকর পরিশোধের পাশাপাশি বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত পরামর্শও পাবেন।
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। বর্তমানে যেখানে চার থেকে পাঁচ লক্ষ ট্রেড লাইসেন্স থাকার কথা, সেখানে আছে মাত্র প্রায় এক লাখ ৩৪ হাজার। অনেক দোকানেই ট্রেড লাইসেন্স নেই, আবার অনেকের লাইসেন্স থাকলেও নবায়ন করা হয় না। তাই বড় মার্কেটগুলোতে প্রথমে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে।”
কোচিং সেন্টারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনের নামে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যানার বা সাইনবোর্ডের জন্য সামান্য কর দিলেই যথেষ্ট, অথচ অনেক প্রতিষ্ঠান তা প্রদান করছে না। এই অর্থ দিয়েই শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব।
মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, “চট্টগ্রামকে ক্লীন, গ্রীন ও হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সবাইকে নিয়মিত কর প্রদান করতে হবে। জনগণকে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হবে না, বরং করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তাই সবাই সময়মতো ট্যাক্স দিয়ে চট্টগ্রামকে সুন্দর নগরীতে রূপান্তর করতে সহযোগিতা করুন।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রাজস্ব বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী।