আজ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যাঁর আত্মত্যাগ ও বীরত্ব আজও বাঙালির হৃদয়ে অম্লান।
১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান। ১৯৬১ সালের ১৫ আগস্ট তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৬৩ সালের ২৩ জুন জিডি (পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন। অসামান্য কর্মদক্ষতা ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৭ সালের ৪ অক্টোবর তাঁকে “সিতারা-এ-হার্ব” খেতাবে ভূষিত করা হয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে তিনি নিজ গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার রামনগরে অবস্থান করছিলেন। স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সেখানে ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খুলে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। পরে মাতৃভূমির মুক্তির জন্য পরিকল্পনা মোতাবেক ২০ আগস্ট ১৯৭১ সালে করাচির মাশরুর বিমান ঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ জেট ছিনিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে নামানোর উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেন।
তবে ককপিটে থাকা আরেক বৈমানিকের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন। তাঁর সেই আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার জন্য স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক “বীরশ্রেষ্ঠ” খেতাবে ভূষিত করে।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান শুধু একজন বীর সেনানীই নন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমর প্রতীক। তাঁর মতো আত্মত্যাগী বীরেরা আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত থাকতে।