চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন আহমদকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র অস্বস্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, জসিম উদ্দিনের অতীত রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান বিএনপির ঘোষিত আদর্শিক রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জসিম উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হলেও ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্য সমর্থন পেয়েছিলেন। বিএনপি যখন নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল, তখন আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক ব্যবহার করেই তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তৃণমূল নেতা। এতে দলীয় অবস্থানের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁর নাম আসামির তালিকায় থাকা এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলার অতীত ইতিহাস স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের মতে, এসব বিষয় বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—এমন একজন প্রার্থীকে সামনে রেখে বিএনপি কি আদৌ তৃণমূলের পূর্ণ সমর্থন পাবে? যারা বছরের পর বছর মামলা, হামলা ও দমন-পীড়নের মুখে দলকে সংগঠিত রেখেছেন, তাঁরা যদি মন থেকে এই প্রার্থীকে গ্রহণ না করেন, তবে নির্বাচনী মাঠে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক স্থানীয় বাসিন্দাও বলছেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর এলাকায় যে ক্ষোভ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা করলে ভোটের ফলাফল বিএনপির প্রত্যাশার বিপরীত হতে পারে।

অন্যদিকে জসিম উদ্দিনকে ঘিরে আনন্দমিছিল ও কিছু নেতার প্রকাশ্য সমর্থন এটাও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দলীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কেবল কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে জেতা যায় না; জেতা যায় তৃণমূলের আস্থা, ঐক্য ও কর্মীদের আন্তরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে সেই আস্থার জায়গাটি বর্তমানে স্পষ্টভাবেই প্রশ্নের মুখে।
এখন দেখার বিষয়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই অসন্তোষকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং আসন্ন নির্বাচনে এই অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি কতটা গভীর প্রভাব ফেলে।