ইউরোপের হৃদপিণ্ডে অবস্থিত ছোট্ট কিন্তু শৈল্পিক এক দেশ— বেলজিয়াম। মধ্যযুগীয় স্থাপত্য, পাথরে বাঁধানো রাস্তা আর খালের ধারে সারিবদ্ধ রঙিন দালান দেখলে মনে হবে আপনি কোনো রূপকথার বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা শহরে দাঁড়িয়ে আছেন। বেলজিয়াম বললেই আমাদের চোখে ভাসে ব্রাসেলসের রাজকীয় ভবন কিংবা লোভনীয় চকলেটের স্বাদ। কিন্তু এই আভিজাত্যের আড়ালে বেলজিয়ামের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে এমন কিছু চমকপ্রদ তথ্য, যা জানলে আপনি বিস্মিত না হয়ে পারবেন না।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বেলজিয়ামের ৫টি অজানা ও বৈচিত্র্যময় তথ্য:
১. ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’ আসলে বেলজিয়ান!
পুরো পৃথিবী যাকে ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’ নামে চেনে, তার আসল জন্ম কিন্তু বেলজিয়ামে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সৈন্যরা যখন বেলজিয়ামে ছিলেন, তখন তারা এই ভাজা আলুর স্বাদ পান। যেহেতু বেলজিয়ান সেনাবাহিনীর দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফরাসি, তাই আমেরিকানরা ভুল করে একে ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’ বলতে শুরু করে। বেলজিয়ানরা মনে করে, তাদের এই আবিষ্কারের কৃতিত্ব ফরাসিরা নিয়ে গেছে, তাই তারা আজও একে কেবল ‘ফ্রাইস’ বলতেই পছন্দ করে।
২. চকলেটের বিশ্বসেরা বাজার
বেলজিয়াম এবং চকলেট যেন একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু আপনি কি জানেন, বিশ্বের একক কোনো স্থানে সবচেয়ে বেশি চকলেট কোথায় বিক্রি হয়? সেটি হলো বেলজিয়ামের জাভেনটেম বিমানবন্দর (Zaventem Airport)। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় এই বিমানবন্দর থেকে প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি পরিমাণ চকলেট বিক্রি হয়। এখানকার চকলেটের গুণমান এবং কারুকার্য বিশ্বজুড়ে অনন্য।
৩. কমিকস ও স্মার্ফদের জন্মভূমি
বেলজিয়ামকে বলা হয় ‘কমিকসের রাজধানী’। আমাদের শৈশবের প্রিয় চরিত্র টিনটিন (Tintin), লাকি লিউক (Lucky Luke) কিংবা নীল রঙের সেই ছোট্ট স্মার্ফ (The Smurfs)—এদের সবার জন্মদাতা বেলজিয়ান শিল্পীরা। বেলজিয়ামের প্রতি বর্গকিলোমিটারে যতজন কমিকস শিল্পী বাস করেন, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই। এমনকি ব্রাসেলসের অনেক বাড়ির দেওয়ালে বিশাল বিশাল সব কমিকস চরিত্র আঁকা থাকে, যা শহরটিকে এক অদ্ভুত প্রাণবন্ত রূপ দেয়।
৪. হিরের রাজধানী: এন্টওয়ার্প
আপনি যদি বিশ্বের সেরা এবং নিখুঁত হিরে (Diamond) কিনতে চান, তবে আপনাকে যেতে হবে বেলজিয়ামের এন্টওয়ার্প (Antwerp) শহরে। এটিকে বলা হয় ‘বিশ্বের হিরের রাজধানী’। পৃথিবীর প্রায় ৮০% অপরিশোধিত হিরে এবং প্রায় ৫০% পালিশ করা হিরে এই একটি শহরের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়। কয়েকশ বছর ধরে এন্টওয়ার্প তার এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
৫. টুমরোল্যান্ড: সুরের বৃহত্তম মিলনমেলা
অত্যাধুনিক সংগীত এবং উৎসবের কথা বললে বেলজিয়ামের নাম সবার আগে আসবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (EDM) ফেস্টিভ্যাল ‘টুমরোল্যান্ড’ (Tomorrowland) প্রতি বছর বেলজিয়ামের ‘বুম’ নামক একটি শহরে অনুষ্ঠিত হয়। সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে বেলজিয়ামে ভিড় জমান। এই উৎসবের আয়োজন এবং শৈল্পিক মঞ্চসজ্জা এটিকে একটি ভিন্ন জগতের অনুভূতি দান করে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক ফেস্টিভ্যাল ‘টুমরোল্যান্ড’
বেলজিয়ামের এই চকলেটের সুবাস আর কমিকসের রঙিন জগত কি আপনাকে মুগ্ধ করেছে? ইউরোপের এই শৈল্পিক দেশটি কিন্তু ভ্রমণের জন্য একদম নিখুঁত একটি জায়গা।