বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০, ১০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোটের নতুন ডিজাইনের। এই নোটগুলোতে আর থাকবে না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। নতুন নোটের নকশায় যুক্ত করা হবে ঐতিহ্যবাহী চিত্র এবং বিশেষ প্রতীক।
বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত
রোববার (৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় নতুন ডিজাইনের নোট প্রচলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সভায় প্রাথমিক পর্যায়ে চারটি নোটের ডিজাইন পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন ডিজাইনের বিশেষত্ব
নতুন নোটগুলোর নকশায় বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হবে।
- ধর্মীয় স্থাপনা: দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নতুন নোটের নকশায় স্থান পাবে। এতে ধর্মীয় সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরা হবে।
- বাঙালি ঐতিহ্য: নতুন নোটে যুক্ত করা হবে বাংলার স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য।
- ‘জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি’: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘জুলাই বিপ্লবের’ ঐতিহাসিক চিত্র যুক্ত হবে।
প্রকাশ ও প্রচলন পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানান, নতুন নোট ছাপানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই নোট বাজারে আসবে।
প্রাথমিকভাবে চারটি নোটের ডিজাইন পরিবর্তন করা হলেও, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে অন্যান্য নোটের ডিজাইন পরিবর্তন করা হবে।
নোট ডিজাইনের প্রক্রিয়া
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে নতুন নোটের নকশার প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা ও নকশা উপদেষ্টা কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে। কমিটির নেতৃত্বে আছেন ডেপুটি গভর্নর-১ এবং নকশা তৈরিতে খ্যাতনামা চিত্রশিল্পীরাও যুক্ত আছেন।
বর্তমান প্রচলিত নোটের বিবরণ
বর্তমানে বাজারে ১, ২, ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার ১০টি কাগুজে নোট প্রচলিত রয়েছে। ২ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকার প্রতিটি নোটেই বঙ্গবন্ধুর ছবি রয়েছে।
নতুন নোট ছাপানোর খরচ
বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে:
- ২০২২-২৩ অর্থবছরে নতুন নোট ছাপাতে খরচ হয়েছে ৩৮,৪০০ কোটি টাকা।
- ২০২১-২২ অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ৩৭,৪০০ কোটি টাকা।
- ২০২০-২১ অর্থবছরে এই খরচ ছিল ৩৪,০০০ কোটি টাকা।