হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) এই রায় দেন।
রিটের পটভূমি:
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা রিট করেন, যার মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার অন্যতম। হাইকোর্ট এ বিষয়ে ১৯ আগস্ট রুল জারি করেন।
সংশোধনীতে যুক্ত কিছু বিষয়:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি
- সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা
- ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন
- অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান
- নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা পরিবর্তন
রায়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:
হাইকোর্ট সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলকে সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করেন। আদালত মনে করেন, এই পরিবর্তন নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
রিটে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠান:
রিট আবেদনকারী সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণফোরাম, এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রুলের পক্ষে বক্তব্য দেন।