যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলসে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার একর এলাকা পুড়ে গেছে, আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীরা হেলিকপ্টার থেকে পানি এবং অগ্নিপ্রতিরোধক ছড়িয়ে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিস্তার এবং ক্ষয়ক্ষতি
আগুনের বিস্তার এতটাই ভয়াবহ যে প্যাসিফিক পালিসেইডস, মান্ডেভিল ক্যানিয়ন এবং ব্রেন্টউডের বেশ কিছু অভিজাত এলাকায় স্থানীয়দের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পুড়ে ছাই হওয়া একটি স্কুল
প্রখ্যাত অভিনেতা আর্নল্ড শোয়ার্জনিগার, এনবিএ তারকা লেব্রন জেমস এবং ডিজনির প্রধান নির্বাহী বব ইগার-এর বাড়ি সহ গেটি সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে।
- ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
- ১ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন।
- ৬০টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ছয়টি অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রিক ম্যাকগিয়াগ।
জরুরি সহায়তা এবং ত্রুটি
ক্যালিফোর্নিয়ার পার্শ্ববর্তী সাতটি রাজ্য, কানাডা এবং মেক্সিকো থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা এসেছে। তবে, ফায়ার হাইড্রেন্টে পানি না থাকা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে।
লস এঞ্জেলস ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ক্রিস্টিন ক্রাউলি জানান:
“দমকল কর্মীরা হাইড্রেন্টের কাছে গেলেও পানি না থাকায় আগুন নেভানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে রাজনীতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
- গভর্নর গেভিন নিউসন পানি সংকট এবং অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
- মেয়র কারেন ব্যাস দাবানল চলাকালীন ঘানায় অবস্থান করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার পদত্যাগের দাবিতে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন।
কারফিউ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা
লুটপাট ঠেকাতে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই ডজন মানুষ লুটপাট ও কারফিউ ভঙ্গের অভিযোগে আটক হয়েছেন।
আগামী দিনগুলোতে বাতাসের গতি বাড়লে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।