বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “বাংলাদেশের মানচিত্র না এঁকে ভারতের মানচিত্র আঁকা সম্ভব নয়।” সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব
ড. ইউনূস ভারতকে বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করে জানান, দুই দেশের সম্পর্ক যতটা সম্ভব শক্তিশালী হওয়া উচিত। “বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলসীমান্ত প্রায় পুরোপুরি একসঙ্গে জড়িত,” উল্লেখ করে তিনি এই সম্পর্কের ভঙ্গুরতা নিয়ে ব্যক্তিগত কষ্টের কথা জানান।
শেখ হাসিনার দমন-পীড়নের সমালোচনা
ড. ইউনূস শেখ হাসিনার শাসনামলকে ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, এবং গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিরবতাকে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,
“হাসিনা গোটা বিশ্বের জন্যই একটি ভালো শিক্ষা।”
শেখ হাসিনার সরকারে সমর্থন দেওয়ার কারণে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ড. ইউনূস ছাত্র নেতাদের সুপারিশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেন।
ভবিষ্যতের নির্বাচন ও পরিকল্পনা
২০২৫ সালের শেষ বা ২০২৬ সালের শুরুর দিকে জাতীয় নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ড. ইউনূস। তবে তিনি নিজে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে সংশয়
তিনি জানান, শেখ হাসিনার সরকারের “আমরা প্রবৃদ্ধিতে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছি” দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে তিনি রাজি হননি।
এইসময় ড. ইউনূস বলেন, “প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে আমি খুব বেশি প্রভাবিত নই। আমি এমন একটি অর্থনীতি চাই, যেখানে সম্পদ কেন্দ্রীকরণের ধারণা থেকে বের হওয়া যাবে।”
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশ-ভারতের বর্তমান তিক্ততা কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ড. ইউনূস। তবে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।