বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, এক-এগারোর ভয়াবহ পরিণতি সবচেয়ে বেশি ভোগ করেছে বিএনপি। যারা এখন বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন, তাদের এমন আচরণ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
শুক্রবার আরাফাত রহমান কোকোর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা আব্বাস বলেন, “যারা ১/১১ এর পাঁয়তারা করছে, তারা গণতন্ত্রের মুখ দেখতে দেবে না। বিএনপিকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অন্য শিবিরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
বিএনপিকে ভিন্ন শিবিরে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, “বিএনপিকে ভারতের দালাল বা আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সবসময় স্বাগত জানায়। যারা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের পরিণতি ভালো হবে না।”
তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়েও মন্তব্য করেন। “গণতান্ত্রিক দল গঠনকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে গণতন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না,” বলেন তিনি।
আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণ
মির্জা আব্বাস বলেন, “আরাফাত রহমান কোকোকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল, আর লাশ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে। খালেদা জিয়াকেও বিনাদোষে বন্দি করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এটি গণতন্ত্র হত্যার শামিল।”
বিএনপির বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের চিত্র
মির্জা আব্বাস উল্লেখ করেন,
“আমার ১১ বছর জেল হয়েছে, আমার স্ত্রীর ১৬ বছর এবং আমার ভাইয়ের আট বছর জেল খাটতে হয়েছে। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা এখন বিএনপির অবদানকে অস্বীকার করছেন, তারা গণতন্ত্রের শত্রু। বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে থেকেছে।”
বক্তব্যে অন্যান্য নেতা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহ যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুজ্জামান মেহেদী, মাহবুব আলম, মসিউর রহমান বিপ্লব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী, সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিল আউয়াল, মৎসজীবী দলের আব্দুর রহিম প্রমুখ।