চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বইমেলার উদ্বোধন করেন গৃহায়ন, গণপূর্ত ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
২৬ দিনব্যাপী এ বইমেলা ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। লেখক-পাঠক আড্ডা, অটোগ্রাফ সংগ্রহ, সেলফি তোলা এবং মুখরোচক খাবারের স্টল মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

শিশু ও তরুণদের উচ্ছ্বাস
এবারের বইমেলায় শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মা-বাবা ও শিক্ষকদের সঙ্গে ছোট্ট সোনামণিরা বইয়ের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে হাজির হয়েছে। শিশুতোষ বইয়ের বিক্রি বেড়েছে, পাশাপাশি গল্প-উপন্যাসের বইও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে। তরুণ-তরুণীরা বই কেনার চাইতে আড্ডা ও ছবি তোলায় বেশি ব্যস্ত ছিল।
প্রকাশনী ও জনপ্রিয় বই
এবারের বইমেলায় ১৪১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ঐতিহ্য, ইউপিএল, অন্যপ্রকাশ, অনন্যা, পাঞ্জেরী, মনন, বিদ্যানন্দসহ দেশবরেণ্য প্রকাশনা সংস্থাগুলো রয়েছে। ইসলামিক বইয়ের স্টলগুলোতে ছিল প্রচুর ভিড়। এবারের মেলায় সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে ইসলামিক ইতিহাস, জিয়াউর রহমানের জীবনী, হুমায়ূন আহমেদের বই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস এবং ছোটদের গল্পের বই।
সাংস্কৃতিক আয়োজন ও নিরাপত্তা
বইমেলায় প্রতিদিন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকছে, যেখানে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এবারের মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে চট্টগ্রামবাসী বইমেলা উপভোগ করছে।