চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এক পক্ষ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কমিটি বাতিলের দাবি জানায়। এরপর দুপুর থেকে ইস্পাহানি মোড় এলাকায় তারা সড়ক অবরোধ করে, যার ফলে লালখান বাজার, টাইগার পাস ও ওয়াসা মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ: বিতর্কিতদের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সিয়াম ইলাহী অভিযোগ করেন,
“নারী সংগঠককে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে সাড়ে চার মাস ধরে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও উল্টো তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হলো।”
যোবায়ের আলম মানিক বলেন, “সম্মুখ সারির আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের কর্মীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় শ’খানেক নেতা পদত্যাগ করেছেন। আজকের মধ্যে সমাধান না হলে আমরা রাজপথেই এর শোধ নেবো।”
গুরুতর অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়,
- রিজাউর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অডিও ফাঁস হয়েছে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
- তিনি ‘ডট গ্যাং’-এর নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান।
- অথচ তাকেই চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক বানানো হয়েছে।
এছাড়া,
- আরেফিনকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক
- দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক হয়েছেন কেন্দ্রীয় এক সমন্বয়কের বন্ধু
ফেসবুকে হুঁশিয়ারি
বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন,
“চট্টগ্রামে উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান সন্ধ্যার আগে করা না হলে আমি এবং সম্মুখ সারির সহযোদ্ধারা এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে যেতে বাধ্য হবো।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষোভ চলছে। এই সংকট সমাধান না হলে চট্টগ্রামের ছাত্র রাজনীতিতে বড় বিভক্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।