চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ইদানিং অসংখ্য স্টাডি এব্রোড প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে প্রফেশনাল সার্ভিস দিচ্ছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, চটকদার অফার, আর নানা রকম কৌশলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও, অনেক সময় এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যথাযথ হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন এবং তাদের মূল্যবান সময় ও অর্থ নষ্ট হয়।
এই পরিস্থিতি এড়াতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অবশ্যই কিছু বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে একটি স্টাডি এব্রোড প্রতিষ্ঠান যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি নির্ভরযোগ্য ও প্রফেশনাল।
প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন ও অনুমোদন যাচাই
প্রথমেই দেখতে হবে প্রতিষ্ঠানটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত কি না। বাংলাদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করতে পারে না।
✅ যা করবেন:
- প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন আছে কি না, তা যাচাই করুন।
- সরকার অনুমোদিত কোনো সংস্থার (যেমন- BOESL, BAIRA) তালিকাভুক্ত কি না, তা জানুন।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সাথে চুক্তি আছে কি না?
অনেক প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে তারা বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল প্রতিনিধি বা পার্টনার। কিন্তু বাস্তবে তাদের কোনো চুক্তি থাকে না। ফলে শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না এবং অনেক সময় ভিসা রিজেক্ট হয়ে যায়।
✅ যা করবেন:
- প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে পার্টনার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা আছে কি না, দেখুন।
- সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিশ্চিত হন যে তারা সত্যিই ওই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি কি না।
- প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ইনভাইটেশন লেটার দেখাতে পারে কি না, তা চেক করুন।
অতীত রেকর্ড ও সফলতার হার দেখুন
একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের হার বোঝার অন্যতম উপায় হলো তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষার্থীদের রিভিউ ও ফিডব্যাক পর্যালোচনা করা।
✅ যা করবেন:
- প্রতিষ্ঠানটির পূর্ববর্তী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রিভিউ সংগ্রহ করুন।
- গুগল, ফেসবুক, বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তাদের ফিডব্যাক দেখুন।
- প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে কতজন শিক্ষার্থী সফলভাবে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, সেই তথ্য জানুন।
পরিষ্কার ফি স্ট্রাকচার আছে কি না?
বেশ কিছু ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। ফলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
✅ যা করবেন:
- পরিষ্কার ফি স্ট্রাকচার চাইতে হবে এবং সেটি লিখিতভাবে নেওয়া ভালো।
- বিশ্ববিদ্যালয় বা ভিসা আবেদন ফি’র পাশাপাশি অন্য কোনো লুকানো চার্জ আছে কি না, তা জিজ্ঞাসা করুন।
- প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টাকা ফেরতের কোনো নীতি আছে কি না, তা জেনে নিন।
ফেক বা ভুয়া ডকুমেন্টস ব্যবহার করে কি না?
কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের ভিসা নিশ্চিত করার নামে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, জাল স্পন্সর লেটার বা অন্য কোনো মিথ্যা তথ্য জমা দিতে বলে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
✅ যা করবেন:
- প্রতিষ্ঠানটি বৈধ কাগজপত্র তৈরি করতে বলে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
- ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন, সেগুলোর তথ্য নিজে ভালোভাবে যাচাই করুন।
- প্রতিষ্ঠানটি যদি ভুয়া কাগজপত্রের প্রস্তাব দেয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে সরে আসুন।
প্রতিষ্ঠানটির শাখা বা অফিস কোথায়?
বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাধারণত স্থায়ী অফিস এবং অভিজ্ঞ কাউন্সেলর থাকে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র অনলাইন পেজ বা অস্থায়ী অফিসের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যায়।
✅ যা করবেন:
- প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ঠিকানা ও অফিস পরিদর্শন করুন।
- প্রতিষ্ঠানটি কত বছর ধরে কাজ করছে, তা জানুন।
- তাদের কর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজ নিন।
অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিষ্ঠান থেকে সাবধান
কিছু প্রতিষ্ঠান বলে, “আমরা ১০০% ভিসা নিশ্চিত করি” বা “অতি দ্রুত ভিসা পাইয়ে দিই”—এসব মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়বেন না।
✅ যা করবেন:
- বিদেশে ভিসার বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের উপর, কোনো স্টাডি এব্রোড প্রতিষ্ঠান এটি নিশ্চিত করতে পারে না।
- খুব বেশি লোভনীয় অফার দিলে সন্দেহ করুন।
শেষ কথা
বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল এজেন্সি বা প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে পড়লে সময় ও টাকা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। তাই স্টাডি এব্রোড প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার সময় অবশ্যই ভালোভাবে যাচাই করুন এবং শুধুমাত্র অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের সেবা নিন।