ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রচেষ্টাকে দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে চীন। পহেলগাঁও হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার একে অপরের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক এবং সর্বক্ষণের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন পাকিস্তানের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্পূর্ণভাবে বোঝে এবং তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং সীমিত সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে চীনের এই প্রকাশ্য সমর্থন পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে। ‘চীন ফ্যাক্টর’ ভারতকেও তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পহেলগাঁও হামলা: উত্তেজনার সূত্রপাত
২২ এপ্রিল, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে হামলা ঘটে। এই হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানকে দোষারোপ করে। পাকিস্তান তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের প্রস্তাব দেয়। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের এই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবির প্রতি সমর্থন জানান এবং দুই দেশকে সংযম প্রদর্শন ও উত্তেজনা প্রশমন করার আহ্বান জানান।
ওয়াং ই বলেন,
“সংঘাত কখনো ভারত-পাকিস্তান কিংবা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে না।”
চীন পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানের অবস্থান
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন,
“পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করে।”
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান পরিপক্ক মনোভাব নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখবে।
পাকিস্তান-চীন মিত্রতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দার বলেন,
“দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করা হবে এবং একতরফা ও আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করা হবে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি-র সঙ্গেও কথা বলেন। সেখানে তিনি ভারতের ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং সিন্ধু পানি চুক্তি (IWT) স্থগিতের অবৈধ সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্য উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং পাকিস্তানের ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করে।