জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে গোপালগঞ্জে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের পৌরপার্ক এলাকায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মঞ্চে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
বুধবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে সমাবেশের শুরুতেই হামলাকারীরা সাউন্ড সিস্টেম, মাইক, চেয়ার ভাঙচুর করে এবং উপস্থিত এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান।

এর আগে সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। একই সময়ে গান্ধীয়াশুর এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। ইউএনও এম রকিবুল হাসান জানান, এ ঘটনায় তার গাড়ির চালক মইন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, এসব সহিংসতার পেছনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যারা এনসিপির পদযাত্রাকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে এসব হামলা চালায়।

এছাড়া, সকাল থেকেই সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। কাঠি বাজার এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতারা বরিশাল থেকে কোটালীপাড়া সড়ক হয়ে গোপালগঞ্জে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। এই তথ্য জানার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা সংগঠিত হয়ে পথে পথে হামলা ও অবরোধ চালান।

দুপুর ১২টার দিকে কংশুর এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৭ জন নেতাকর্মীকে আটক করে। গোপালগঞ্জ সেনানিবাসের গোয়েন্দা সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আটককৃতদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “পদযাত্রার মাধ্যমে আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিলাম। অথচ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে রক্তাক্ত করে তুলেছে।”
নেতারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক অধিকার আজ গোপালগঞ্জে চরম হুমকির মুখে।”
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহত হয়েছেন একাধিক এনসিপি কর্মী, একজন গাড়িচালক ও পুলিশের এক সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।