ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন পূর্ণাঙ্গ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী তেহরানসহ গোটা ইরান উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, গভর্নরের কার্যালয় ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় আগুন দিয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর মুদ্রার ব্যাপক দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন ইরানিরা। ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটে সাধারণ মানুষ যোগ দিলে আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে তা ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে রূপ নেয়। বর্তমানে রাজধানী তেহরানসহ দেশের ৩১টি প্রদেশের তিন শতাধিক স্থানে বিক্ষোভ চলছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের এক সদস্য নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়ে ওঠে। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দিলেও প্রায় দুই সপ্তাহের আন্দোলনে ৮ নিরাপত্তা সদস্যসহ অন্তত ৪৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে। ইন্টারনেটের পাশাপাশি মোবাইল ফোন সেবাও বিঘ্নিত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। ইরানি রাজতন্ত্রের শেষ উত্তরাধিকারী রেজা পাহলভি সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।