Home » ক্যান্সার চিকিৎসায় বিপ্লব: ‘লিভিং ড্রাগ’ কার-টি সেল থেরাপি

ক্যান্সার চিকিৎসায় বিপ্লব: ‘লিভিং ড্রাগ’ কার-টি সেল থেরাপি

by দাঊদ আরমান
0 comments 71 views
A+A-
Reset

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ক্যান্সার জয় করার লড়াইয়ে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে ‘কার-টি সেল থেরাপি’ (CAR-T Cell Therapy), যাকে বিজ্ঞানীরা ডাকছেন ‘লিভিং ড্রাগ’ বা জীবন্ত ওষুধ নামে। প্রচলিত কেমোথেরাপি যেখানে শরীরের ভালো-মন্দ সব কোষকেই আক্রমণ করে, সেখানে কার-টি সেল থেরাপি রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেই রি-প্রোগ্রামিং বা পুনর্গঠন করে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীর থেকে টি-সেল (T-cell) সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে সেটির ডিএনএ-তে একটি বিশেষ জিন যুক্ত করা হয়, যা কোষটিকে ক্যান্সার শনাক্ত করার এক শক্তিশালী ‘জিপিএস’ প্রদান করে। পরবর্তীতে কয়েক কোটি গুণ বৃদ্ধি করা এই রূপান্তরিত কোষগুলো যখন রোগীর শরীরে পুনরায় প্রবেশ করানো হয়, তখন তারা নির্দিষ্ট ক্যান্সার কোষগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করে ফেলে।

কার-টি সেল থেরাপি বিশ্বজুড়ে এত বিখ্যাত হওয়ার মূল কারণ হলো এর অভাবনীয় সাফল্যের হার। বিশেষ করে রক্ত ক্যান্সারের ধরন যেমন—একিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (ALL), বি-সেল লিম্ফোমা এবং মাল্টিপল মায়েলোমার ক্ষেত্রে এটি জীবন রক্ষাকারী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। যেসব রোগী কেমোথেরাপি বা প্রচলিত চিকিৎসায় সুস্থ হননি, তাদের ক্ষেত্রেও এই থেরাপি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সফল হতে দেখা গেছে। তবে এর উচ্চমূল্য এবং কারিগরি জটিলতা বিশ্বের অনেক দেশের সাধারণ মানুষের জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে ভারত, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া এই প্রযুক্তি প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারত সম্প্রতি নিজস্ব প্রযুক্তিতে ‘নেক্স-কার-১৯’ (NexCAR19) নামক থেরাপি তৈরি করেছে, যার ফলে পশ্চিমা বিশ্বের কোটি টাকার এই চিকিৎসা এখন কয়েক লক্ষ টাকায় ভারতে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়াও উচ্চমানের জিএমপি ল্যাব এবং দক্ষ বিজ্ঞানী নিয়োগের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই আধুনিক চিকিৎসাসেবার বড় কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির বিকাশ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এর পেছনে বেশ কিছু শক্তিশালী কারণ কাজ করছে। এই থেরাপির জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত উচ্চমানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি এবং বিশেষায়িত বায়ো-সেফটি ব্যবস্থা, যা তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এছাড়া দক্ষ মলিকুলার বায়োলজিস্ট এবং ইমিউনোলজিস্টদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিমের অভাব এবং উচ্চ মূল্যের রিয়েজেন্ট আমদানিতে আইনি ও লজিস্টিক জটিলতাও বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা এখন বৈশ্বিক এই উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশনের মাধ্যমে কার-টি সেল প্রযুক্তির সুফল এদেশের রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসায়ও এই বৈপ্লবিক প্রযুক্তি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

লেখক: দাঊদ আরমান
প্রেস এবং আইটি সেক্রেটারি,
বাংলাদেশ মেডিকেল ট্যুরিজম এ্যাসোসিয়েশন – বিএমটিএ

You may also like

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: গুলজার টাওয়ার (২য় তলা), চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com