যে আবর্জনা দেখে মানুষ নাক সিঁটকায়, আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতিতে সেটাই এখন ‘স্বর্ণখনি’। বৈশ্বিক বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং শিল্পের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন বা দেড় লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা নতুন নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে।
বর্জ্যকে পুঞ্জীভূত বোঝা হিসেবে না দেখে, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তা প্রক্রিয়াজাত ও রফতানি করে বিপুল রাজস্ব আয় করছে বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জার্মানি, যারা তাদের মোট উৎপাদিত আবর্জনার প্রায় ৬৫%-এর বেশি রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করে। কেবল প্লাস্টিক ও ধাতব বর্জ্য বিশ্ববাজারে রফতানি করেই দেশটি বছরে প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; দেশটি প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার মূল্যের ক্র্যাপ মেটাল (ধাতব বর্জ্য), ই-ওয়েস্ট ও ব্যবহৃত কাগজ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রফতানি করে বিশাল বৈশ্বিক বাজার দখল করে রেখেছে। অন্যদিকে জাপান তাদের সীমিত ভূমির কারণে প্রযুক্তিভিত্তিক বিশেষায়িত রিসাইক্লিংয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে; দেশটি বার্ষিক প্রায় ৬ লাখ টনেরও বেশি প্রক্রিয়াজাত প্লাস্টিক ও স্ক্র্যাপ রফতানি করে বিলিয়ন ডলারের আয় নিশ্চিত করছে।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে সুইডেন। নিজস্ব আধুনিক ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ (বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ) প্রযুক্তির দক্ষতা এতটাই উঁচুতে নিয়ে গেছে যে দেশে আবর্জনার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় তারা উল্টো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আর্থিক বিনিময় নিয়ে আবর্জনা আমদানি করছে এবং তা থেকে কোটি কোটি ডলার সমমূল্যের বিদ্যুৎ ও তাপ শক্তি উৎপাদন করে নিজেদের জাতীয় চাহিদা মেটাচ্ছে।
বর্জ্য এখন আর বোঝা নয়, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণে এটি যেকোনো দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার এক অনন্য হাতিয়ার। পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পরিত্যক্ত বর্জ্যকে বৈশ্বিক সম্পদে রূপান্তরের এই অর্থনৈতিক মডেল এখন উদীয়মান দেশগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে।